রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০২২

Dakshina Kalika stotra


ওঁ কৃশোদরি মহাচণ্ডী মুক্তকেশিং বলীপ্রিয়ে।
কুলাচারপ্রসন্নাস্যে নমস্তে শঙ্করপ্রিয়ে।।

ঘোরদংষ্ট্রে কোটোরাক্ষি কিটিশব্দ প্রসাধিনী।
ঘুরঘোররাবাস্ফারে নমস্তে চিতাবাসিনী।।

বন্ধুকপুষ্পসঙ্কাশে ত্রিপুরে ভয়নাশিনী।
ভাগ্যোদয়সমুৎপন্নে নমস্তে বরবন্দিনী।।

জয় দেবি জগদ্ধাত্রী ত্রিপুরাদ্যে ত্রিদেবতে।
ভক্তেভ্যো বরদে দেবি মহষঘ্নি নমোহস্তুতে।।

ঘোরবিঘ্নবিনাশায় কুলাচারসমৃদ্ধয়ে।
নমমি বরদে দেবি মুণ্ডমালা বিভূষনে।।

রক্তধারাসমাকীর্ণে করকাঞ্চীবিভূষিতে।
সর্ব্ববিঘ্নহরে কালী নমস্তে ভৈরবপ্রিয়ে।।

নমস্তে দক্ষিণামূর্ত্তে কালী ত্রিপুরভৈরবী।
ভিন্নাঞ্জনচয়প্রক্ষে প্রবীণশবসংস্থিতে।।

গলচ্ছ্রোণিতধারাভিঃ স্মেরাননসরোরুহে।
পীনোন্নতকুচদ্বন্দ্বো নমস্তে ঘোরদক্ষিণে।।

আরক্তমুখশান্তাভির্নেত্রালিভির্বিরাজিতে।
শবদ্বয় কৃতোত্তংসে নমস্তে মদবিহ্বলে।।

পঞ্চাশন্মুণ্ডঘটিতমালা লোহিত লোহিতে।
নানামণিবিশোভাঢ্যে নমস্তে ব্রহ্মসেবিতে।।

শবাস্থিকৃতকেয়ুর, শঙ্খ-কঙ্কন-মণ্ডিতে।
শববক্ষঃ সমারুঢ়ে নমস্তে বিষ্ণুপূজিতে।।

শবমাংস কৃতগ্রাসে অট্টহাসে মুহুর্মুহু।
মুখশীঘ্রস্মিতামোদে নমস্তে শিববন্দিতে।।

খড়্গমুণ্ডধরে বামে সব্যে (অ) ভয়বরপ্রদে।
দন্তুরে চ মহারৌদ্রে নমস্তে চণ্ডনাদিতে।।

ত্বং গতিঃ পরমা দেবি ত্বং মাতা পরমেশ্বরী।
ত্রাহি মাং করুণাসাদ্রে নমস্তে চণ্ডনায়িকে।।

নমস্তে কালিকে দেবি নমস্তে ভক্তবৎসলে।
মুর্খতাং হর মে দেবি প্রতিভা জয়দায়িনী।।

গদ্যপদ্যময়ীং বাণীং তর্কব্যাকরণাদিকম্।
অনধীতগতাং বিদ্যাং দেহি দক্ষিণকালিকে।।

জয়ং দেহি সভামধ্যে ধনং দেহি ধনাগমে।
দেহি মে চিরজীবিত্বং কালিকে রক্ষ দক্ষিণে।।

রাজ্যং দেহি যশো দেহি পুত্রান্ দারান্ ধনং তথা।
দেহান্তে দেহি মে মুক্তিং জগন্মাতঃ প্রসীদ মে।।

ওঁ মঙ্গলা ভৈরবী দুর্গা কালিকা ত্রিদশেশ্বরী।
উমা হৈমবতীকন্যা কল্যাণী ভৈরবেশ্বরী।।

কালী ব্রাহ্মী চ মাহেশী কৌমারী বৈষ্ণবী তথা।
বারাহী বাসলী চণ্ডী ত্বাং জগুর্ম্মুনয়ঃ সদা।।

উগ্রতারেতি তারেতি শিবত্যেকজটেতি চ।
লোকোত্তরেতি কালেতি গীয়তে কৃতিভিঃ সদা।।

যথা কালী তথা তারা তথা ছিন্না চ কুল্লকা।
একমূর্ত্তিশ্চতুর্ভেদ দেবি ত্বং কালিকা পুরা।।

একত্রিবিধা দেবী কোটিধানন্তরূপিনী।
অঙ্গাঙ্গিকৈর্নামভেদৈঃ কালিকেতি প্রগীয়তে।।

শম্ভুঃ পঞ্চমুখেনৈব গুণান্ বক্তুং ন তে ক্ষমঃ।
চাপল্যৈর্যৎ কৃতং স্তোত্রং ক্ষমস্ব বরদা ভব।।

প্রাণান্ রক্ষ যশো রক্ষ পুত্রান্ দারান্ ধনং তথা।
সর্ব্বকালে সর্ব্বদেশে পাহি মাং দক্ষিণকালিকে।।

যঃ সংপূজ্য পঠেৎ স্তোত্রং দিবা বা রাত্রিসন্ধ্যায়োঃ।
ধনং ধান্যং তথা পুত্রং লভতে নাত্র সংশয়।।

শ্রীমন্মহাকালবিরচিত শ্রীমদ্দক্ষিণকালিকাস্তোত্রং সম্পূর্ণম্।।

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০২২

বিল্ববৃক্ষ

বিল্ববৃক্ষ মাহাত্ম্যঃ

বেলগাছ হিন্দুধর্মে একটি পবিত্র বৃক্ষ। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম Aegle marmelos। 

বিল্ববৃক্ষ শিবস্বরূপ। এর তিনটি পাতার মাঝেরটি শিবস্বরূপ, বামপত্র ব্রহ্মাস্বরূপ ও ডানপত্র বিষ্ণুস্বরূপ। বেলপাতার সামনের অংশকে অমুর্যাম বলে। বেলের তিনটি পাতা সৃষ্টি-স্থিতি-লয় বা  ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর বা সত্ত্ব-রজ-তম কে নির্দেশ করে। 

ঋগ্বেদের শ্রী সূক্তে বেলের উপকারীতার কথা বলা আছে। নেপালে বিয়ের আগে যে অনুষ্ঠান করে তাকে বেল-বিবাহ বলে। বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে বেলগাছ লাগানো শুভ। এতে সম্পদ প্রাপ্তি হয়। দক্ষিনদিকে দূর্ঘটনা বা বাধামুক্তি, পশ্চিমে সন্তানভাগ্য, পূর্বে সম্পদ ও শান্তি আসে। 

বেলফলের অপর নাম শ্রীফল। কথিত আছে মহালক্ষ্মীর স্তন হতে বেলের সৃষ্টি বলে এই ফলের নাম শ্রীফল। 


বিল্ববৃক্ষের ধ্যানঃ

ওঁ চতুর্ভুজং বিল্ববৃক্ষং রজতাভং বৃষস্থিতম্।

নানালঙ্কার সংযুক্তং জটামণ্ডলধারিণম্।।

বরাভয়করং দেবং খড়্গখট্বাঙ্গ ধারিণম্।

ব্যাঘ্রচর্মাম্বরধরং শশিমৌলি ত্রিলোচনম্।।

ওঁ বিল্ববৃক্ষায় নমঃ

🔱🔱🔱🔱🔱🔱🔱🔱🔱🔱🔱🔱🔱

প্রণাম মন্ত্রঃ

ওঁ মহাদেবপ্রিয়করো বাসুদেব প্রিয়ঃ সদা।

উমাপ্রীতিকরো বৃক্ষো বিল্বরূপ নমোহস্তু তে।।

বিল্ববৃক্ষ যেখানে থাকে সেই স্থান বারাণসীপুরী। আর এই বৃক্ষ এতটাই পবিত্র যে এর ছায়া মাড়ালে আয়ু নাশ হয় ও পাদস্পর্শে শ্রী নাশ হয়।

বেলগাছের উপকারীতা :-

* বেলফল সরষের তেলের মিশ্রণে যদি কোনও ব্যথায় মালিশ করা হয় তবে খুব উপকার পাওয়া যায়।

* বেল ফলের গুঁড়ো দুধের সাঙ্গে পান করলে রক্তাল্পতার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

* বেলফল চিনির সঙ্গে সেবন করলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

* হাই ব্লাড সুগার রোগে নিয়মিত বেল ফল খেলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

* বেলফল ঠাণ্ডা জলে ভিজিয়ে মিছরি সহকারে পান করলে লিভারের সমস্যা দূর হয়।

* বেলের গুঁড়ো যদি ক্ষত স্থানে লাগানো হয় তাহলে খুব তাড়াতাড়ি উপশম হয়।

  

বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০২২

শাম্ব সদাশিব

শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১

কার্তিক পুজো

         
          ( আরও দেখুন - সূচিপত্র
         বাংলা কার্তিক মাসের সংক্রান্তির দিন পুজা করা হয় দেবসেনাপতি কার্ত্তিকেয়র। দেবসেনাপতি কার্ত্তিকেয়  ভগবান শিবের পুত্র । তারকাসুর বর পেয়েছিলেন যে ভগবান শিবের পুত্র ছাড়া আর কারোর হাতেই তিনি নিহত হবেন না। সে উদ্দেশ্যে কামদেব যান লক্ষ লক্ষ বৎসর ধরে তপস্যালীণ শিবের তপোভঙ্গ করতে। 
ঘটনাক্রমে এসময় ভগবান শিবের জন্য তপস্যা করছিলেন হিমালয় কন্যা পার্বতী। মদনদেব শিবের তপোভঙ্গ করলে পার্বতীর সাথে শিবের মিলন হয়। আর শিববীর্য ধারন করেন পার্বতী। কিন্তু ভগবান শিবের সেই জ্বলন্ত সূর্য সমান বীর্য পার্বতীর পক্ষে ধারন করা অসম্ভব হলে তিনি তা অগ্নিদেবকে প্রদান করেন। অগ্নিদেবও তা ধারন করতে না পেরে শরবনে নিক্ষেপ করেন। সেখানেই কার্তিকের জন্ম হয়।
কৃত্তিকাগণ মানুষ করেন বলে নাম হয় কার্তিক বা কার্ত্তিকেয়। এছাড়াও তাকে একাধিক নামে ডাকা হয়। যথা - কৃত্তিকাসূত, অম্বিকেয়া, নমুচি, স্কন্দ, শিখিধ্বজ, অগ্নিজ, বাহুল্য, ক্রোণারতী, শরাজ, তারকারি, শক্তিপাণি, বিশাখা, সরণান, গুহ, শান্তমাতুর, কুমার, সৌর্সেন, দেবসেনাপতি গৌরী সুত ইত্যাদি।
কার্তিকের স্ত্রী হলেন দেবসেনা এবং বালি (বলি)। সুরপাদমানকে হত্যা করার পরে দেবরাজ ইন্দ্র কার্তিককে তাঁর কন্যা দেবসেনের সাথে বিবাহ করেছিলেন। কার্তিক পরে নাম্বিরাজের মেয়ে বালিকে বিয়ে করেছিলেন।

দেবসেনাপতি কার্তিক দক্ষিণ ভারতে প্রসিদ্ধ । তামিল বিশ্বাস অনুসারে, মুরুগান হলেন তামিলনাড়ুর রক্ষক। এছাড়াও  সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া এবং মরিশাসে যেখানে তামিল জাতিগোষ্ঠী প্রভাব রয়েছে সেখানে মুরুগান খুব জনপ্রিয়। 
তামিল ও মালায়ালামে তিনি  মুরুগান বা ময়ূরী স্কন্দস্বামী (তামিল: முருகன், মালায়ালাম: മുരുകൻ) নামে পরিচিত।  কন্নড় ও তেলেগুতে তিনি সুব্রহ্মণ্যম (কন্নড়: ಸುಬ್ರಹ್ಮಣ್ಯ, তেলেগু: స్వామి స్వామి‍) ।  শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে কার্তিকেয়কে উত্সর্গীকৃত কাঠারগাম  মন্দিরে হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরাই উপাসনার জন্য হাজির হয় । 

কার্তিক পূজার মন্ত্র :-ও


ওঁ কার্ত্তিকেয়ং মহাভাগং ময়ুরোপরিসংস্থিতম্।
তপ্তকাঞ্চনবর্ণাভং শক্তিহস্তং বরপ্রদম্।।
দ্বিভুজং শক্রহন্তারং নানালঙ্কারভূষিতম্।
প্রসন্নবদনং দেবং কুমারং পুত্রদায়কম্।।

ওঁ কার্ত্তিকের মহাভাগ দৈত্যদর্পনিসূদন।
প্রণোতোহং মহাবাহো নমস্তে শিখিবাহন।
রুদ্রপুত্র নমস্ত্তভ্যং শক্তিহস্ত বরপ্রদ।
ষান্মাতুর মহাভাগ তারকান্তকর প্রভো।
মহাতপস্বী ভগবান্ পিতুর্মাতুঃ প্রিয় সদা।
দেবানাং যজ্ঞরক্ষার্থং জাতস্ত্বং গিরিশিখরে।
শৈলাত্মজায়াং ভবতে তুভ্যং নিত্যং নমো নমঃ।

প্রণাম মন্ত্র:-

ওঁ কার্ত্তিকের মহাভাগ দৈত্যদর্পনিসূদন। প্রণোতোহং মহাবাহো নমস্তে শিখিবাহন। রুদ্রপুত্র নমস্ত্তভ্যং শক্তিহস্ত বরপ্রদ।


বর্ণনা:-

           পৌরাণিক বর্ননা অনুসারে দেবসেনাপতি কার্তিকেয়র গাত্র হলুদবর্ণের। তার ছয়টি মাথা, তাই তিনি ষড়ানন বলে খ্যাত । পাঁচটি ইন্দ্রিয় অর্থাৎ চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বক ছাড়াও একাগ্র মন দিয়ে তিনি যুদ্ধ করেন বলেই তিনি ষড়ানন ।  তার বাহন ময়ূর। সৌন্দর্য এবং শৌর্য এই দুটি বৈশিষ্ট্যই ময়ূরের মধ্যে বিদ্যমান। তাঁর হাতে থাকে বর্শা-তীর-ধনুক। তিনি চিরকুমার । তবে কিছু কিছু পৌরাণিক বর্ণনাতে  তাঁর বিবাহের উল্লেখও পাওয়া গেছে। কারো মতে মানব জীবনের ষড়রিপু- কাম(কামনা), ক্রোধ (রাগ), লোভ(লালসা),মদ(অহং), মোহ (আবেগ), মাত্সর্য্য (ঈর্ষা)কে সংবরণ করে দেব সেনাপতি কার্তিক যুদ্ধক্ষেত্রে সদা সজাগ থাকেন।

লোকাচার:-

মা ষষ্ঠী কার্তিকেয়র স্ত্রী। কথিত আছে তারকাসুরের হাত হতে মা ষষ্ঠীই শিশু কার্তিকেয়কে রক্ষা করেন। এজন্যই মা ষষ্ঠী শিশুদের রক্ষাকর্ত্রী বলে মানা হয় ৷ আর কথিত আছে কার্তিক ঠাকুরের কৃপা পেলে পুত্রলাভ এবং ধনলাভ হয়। সেজন্য সদ্য বিয়ে হয়েছে অথবা বিয়ের এক বছর হয়ে গেছে কিন্তুু এখনও সন্তান আসেনি এমন দম্পতির বাড়ির সামনে কার্তিক ঠাকুরের মূর্তি ফেলা একটি জনপ্রিয় লোকাচারের মধ্যে পড়ে ।

বর্ধমানের কাটোয়ার কার্তিক পুজো এত বিখ্যাত তাই এখানে এক পুজোর সঙ্গে অন্য পুজোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে। একে কার্তিক লড়াই বলা হয়  । কার্তিকেয়কে  নিয়ে এই বাংলায় প্রচলিত আছে  বহু ছড়া। এদের মধ্যে পরিচিত একটি হল –

“কার্তিক ঠাকুর হ্যাংলা, একবার আসেন মায়ের সাথে, একবার আসেন একলা।”


সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১

অষ্টলক্ষ্মী

      

( আরও দেখুন - কোজাগরী লক্ষীপুজা, * লক্ষ্মী দেবীর ব্রতকথা
           মা লক্ষ্মীর আটটি রূপ। 
  • আদিলক্ষ্মী  বা মহালক্ষ্মী  : এটি লক্ষ্মীর আদিরূপ।  মহর্ষি ভৃগুর কন্যারূপে লক্ষ্মীর অবতার তাই তিনি 'সাগরকন্যা' নামেও পরিচিতা। সমুদ্র মন্থনের সময় এই আদিলক্ষ্মী প্রকটিত হন এবং শ্রীবিষ্ণুকে স্বামী হিসেবে বরণ করে নেন। 
  • ধনলক্ষ্মী : এই লক্ষ্মী অর্থ ও স্বর্ণদাত্রী । তিনি সাধককে সকল বৈষয়িক সুখ ও সমৃদ্ধি প্রদান করেন।
  • ধান্যলক্ষ্মী : কৃষিসম্পদদাত্রী লক্ষ্মী, যিনি কৃষকের গৃহে নবান্নে ধান্যলক্ষ্মীরূপে পূজিতা হন। 
  • গজলক্ষ্মী : গবাদি পশু ও হস্তীআদি সম্পদদাত্রী লক্ষ্মী। এছাড়াও এই গবাদিপশু পালন থেকে যে আয় হয়, তাও গজলক্ষ্মীর কৃপা বলে গণ্য করা হয়ে থাকে। গজলক্ষ্মী রাজক্ষমতাও প্রদান করেন। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, গজলক্ষ্মী দেবরাজ ইন্দ্রকে সমুদ্রগর্ভ থেকে তার হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়াও গজ অর্থাৎ হাতিদের দ্বারা পূজিত বলে তিনি গজলক্ষ্মী নামে পরিচিতা ।
  • সন্তানলক্ষ্মী : সন্তানসুখপ্রদায়িত্রী লক্ষ্মী।
  • বীরলক্ষ্মী  বা ধৈর্যলক্ষ্মী : যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব এবং জীবনের কঠিন সময়ে সাহস প্রদানকারী লক্ষ্মী হলেন বীরলক্ষ্মী বা ধৈর্যলক্ষ্মী । 
  • বিজয়লক্ষ্মী  বা জয়লক্ষ্মী  : বিজয় প্রদানকারিনী লক্ষ্মী, কেবলমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়  বরং জীবনের কঠিন সময়ে বাধাবিপত্তি জয় করে সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রেও বিজয়ালক্ষ্মী গুরুত্বপূর্ণ দেবী।
  • বিদ্যালক্ষ্মী : কলা ও বিজ্ঞানের জ্ঞান রূপ ধন প্রদানকারিনী লক্ষ্মী।
  • অষ্টলক্ষ্মী স্তোত্রম্ :-
       আদিলক্ষ্মী
    সুমনসবন্দিত সুন্দরি মাধবি
         চন্দ্র সহোদরি হেমময়ে।
    মুনিগণমণ্ডিত মোক্ষপ্রদায়িনী
         মঞ্জুলভাষিণী বেদনুতে ।
    পঙ্কজবাসিনী দেবসুপূজিত
         সদ্গুণবর্ষিণী শান্তিযুতে ।
    জয়জয় হে মধুসূদন কামিনি
         আদিলক্ষ্মি সদা পরিপালয় মাম্ ।।১।।

       ধান্যলক্ষ্মী 
    অহিকলি কল্মষনাশিনী কামিনী
         বৈদিকরূপিণী বেদময়ে ।
    ক্ষীরসমুদ্ভব মঙ্গলরূপিণি
         মন্ত্রনিবাসিনি মন্ত্রনুতে ।
    মঙ্গলদায়িনী অম্বুজবাসিনী
         দেবগণাশ্রিত পাদযুতে .
    জয়জয় হে মধুসূদন কামিনী
         ধান্যলক্ষ্মি সদা পালয মাম্ ।।২।। 

       ধৈর্যলক্ষ্মী 
    জয়বরবর্ণিনী বৈষ্ণবি ভার্গবী
         মন্ত্রস্বরূপিণী মন্ত্রময়ে ।
    সুরগণপূজিত শীঘ্রফলপ্রদ
         জ্ঞানবিকাসিনী শাস্ত্রনুতে ।
    ভবভযহারিণি পাপবিমোচনি
         সাধুজনাশ্রিত পাদযুতে ।
    জয়জয় হে মধুসূদন কামিনী
         ধৈর্যলক্ষ্মি সদা পালয় মাম্ ।।৩।। 

       গজলক্ষ্মী 
    জয়জয় দুর্গতিনাশিনী কামিনী
         সর্বফলপ্রদ শাস্ত্রময়ে ।
    রথগজ তুরগপদাদি সমাবৃত
         পরিজনমণ্ডিত লোকনুতে ।
    হরিহর ব্রহ্ম সুপূজিত সেবিত
         তাপনিবারিণি পাদযুতে।

       জয় জয় হে মধুসূদন কামিনী 
                গজলক্ষ্মি রূপেণ পালয মাম্ ।।৪।।

   সন্তানলক্ষ্মী 
অহিখগ বাহিনী মোহিনী চক্রিণী
     রাগবিবর্ধিনী জ্ঞানময়ে। 
গুণগণবারিধি লোকহিতৈষিণী
     স্বরসপ্ত ভূষিত গাননুতে। 
সকল সুরাসুর দেবমুনীশ্বর
     মানববন্দিত পাদযুতে ।
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনি
     সন্তানলক্ষ্মি ত্বং পালয় মাম্ ।।৫।। 

    বিজয়লক্ষ্মী 
জয় কমলাসনী সদ্গতিদায়িনী
     জ্ঞানবিকাসিনী গানময়ে ।
অনুদিনমর্চিত কুঙ্কুমধূসর-
     ভূষিত বাসিত বাদ্যনুতে। 
কনকধরাস্তুতি বৈভব বন্দিত
     শঙ্কর দেশিক মান্য পদে। 
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনী
     বিজয়লক্ষ্মি সদা পালয় মাম্ ।।৬।। 

   বিদ্যালক্ষ্মী
প্রণত সুরেশ্বরি ভারতি ভার্গবী
     শোকবিনাশিনী রত্নময়ে
মণিময়ভূষিত কর্ণবিভূষণ
     শান্তিসমাবৃত হাস্যমুখে ।
নবনিধিদায়িনী কলিমলহারিণী
     কামিত ফলপ্রদ হস্তযুতে ।
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনী
     বিদ্যালক্ষ্মি সদা পালয় মাম্ ।।৭।। 

   ধনলক্ষ্মী
ধিমিধিমি ধিন্ধিমি ধিন্ধিমি দিন্ধিমী
     দুন্দুভি নাদ সুপূর্ণময়ে। 
ঘুমঘুম ঘুঙ্ঘুম ঘুঙ্ঘুম ঘুঙ্ঘুম
    শঙ্খনিনাদ সুবাদ্যনুতে ।
বেদপুরাণেতিহাস সুপূজিত
     বৈদিকমার্গ প্রদর্শযুতে .
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনী
     ধনলক্ষ্মি রূপেণ পালয় মাম্ ।।৮।।